ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায়

আজকের পোস্টটিতে আমরা ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায় জানব। ইসলামী ব্যাংক হলো বাংলাদেশের ইসলামিক শরিয়াহ ভিত্তিক একটি অন্যতম জনপ্রিয় ব্যাংক। পোস্টটিতে আমরা আরো জানবো কিভাবে বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়।

আমরা আরো জানব ইসলামী ব্যাংকের সকল সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে। তারপরে কি ভাবে CellFin  অ্যাপ ব্যবহার করতে হয় এবং কি ভাবে রেজিস্ট্রেশন করতে হয় সকল বিষয়েয বিস্তারিত আলোচনা করব। আপনি যদি অনলাইনের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের একাউন্ট খুলতে চান তাহলে পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

সূচিপত্রঃ ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার  সহজ উপায়

ইসলামী  অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায়

আমরা এখন জানবো ব্যাংকে না গিয়ে কিভাবে অনলাইনের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। অনলাইনের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য CellFin  অ্যাপ ব্যবহার করতে হয়। আমেরা CellFin  অ্যাপ কিভাবে ইন্সটল করব এবং রেজিস্ট্রেশন করব সকল বিষয়ে বিস্তারিত জানবো। CellFin  অ্যাপ ইনস্টল করার জন্য প্রথমে আমাদেরকে google প্লে স্টোরে যেতে হবে। গুগল প্লে স্টোর থেকে CellFin  অ্যাপ ইন্সটল করতে হবে। আমাদের অ্যাপ ইন্সটল হয়ে গেলে আমরা যে নাম্বার দিয়ে একাউন্ট খুলব সেই নাম্বার দিয়ে অ্যাপটি রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, তারপরে নাম্বারে একটি ওটিপি যাবে ওটিপি দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। তারপরে আমাদের এনআইডি কার্ড দিয়ে স্ক্যান করতে হবে এবং আমাদের লাইভ সেলফির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।

এই প্রক্রিয়াটিকে কেওয়াইসি ভেরিফিকেশন বলা হয়। ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ হওয়ার মাধ্যমে অ্যাপটি রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ হবে। তারপরে আমরা কোন ধরনের অ্যাকাউন্ট খুলতে চাই তা আমাদের আগে নির্বাচন করতে হবে। যেমন স্টুডেন্ট , সেভিংস অথবা কারেন্ট একাউন্ট। একাউন্ট নির্বাচন করা হয়ে গেলে আমাদের সকল ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা,পেশা এবং নমিনির তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হবে। সকল তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর একবার ভালোভাবে চেক করে নিব তারপরে সাবমিট করব। এরপরে ব্যাংক সকল তথ্য যাচাই করার জন্য কিছুক্ষণ সময় নিবে। ব্যাংকের সকল কার্যক্রম সম্পূর্ণ হওয়ার পরে বা তথ্য যাচাই করে সব সঠিক থাকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আপনার অ্যাকাউন্ট চালু হবে বা আপনার ফোন নাম্বারে মেসেজের মাধ্যমে তা জানিয়ে দিবে। এভাবে আপনার অনলাইনে মাধ্যমে একাউন্ট করা সম্পূর্ণ হবে।

সেলফিন একাউন্ট খোলার নিয়ম

আমরা এখন জানব কিভাবে মোবাইল এর মাধ্যমে সেলফিন একাউন্ট খুলতে হয়। সেলফিন একাউন্ট কি? সেলফিন হলো ইসলামী ব্যাংকের অফিসিয়াল মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ সিস্টেম। আমরা আরো জানবো কিভাবে ঘরে বসে সেলফিন একাউন্ট খুলতে হয় এবং সেলফিন অ্যাপের সকল ধরনের সুবিধা সম্পর্কে জানব। সেলফিন একাউন্ট একবার খোলার পরে আমরা সেলফিন অ্যাপের সকল সুবিধা ব্যবহার করতে পারব। সেলফিন অ্যাপ খোলার জন্য প্রথমে আমাদের গুগল প্লে স্টোরে যেতে হবে। গুগল প্লে স্টোর থেকে সেলফিন অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে। তারপরে সেলফিন অ্যাপ ওপেন করে আমাদের ফোন নাম্বার দিয়ে অ্যাপ রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ হওয়ার জন্য আমাদের ফোন নাম্বারে একটি OTP কোড আসবে, সেই কোডটি বসিয়ে এ ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ করতে হবে।

এরপরে আমাদের অ্যাকাউন্ট এর  নিরাপত্তার জন্য একটি পিন সেট করতে হবে। এই পিনটি এমন কিছু সংখ্যা দিয়ে দিতে হবে যাতে আমরা  সহজে মনে রাখতে পারি। এই পিনটি একাউন্ট খোলার জন্য এবং লেনদেনের জন্য সব সময় ব্যবহার করতে হবে, তাই পিনটি অবশ্যই গোপন ভাবে রাখতে হবে।এরপরে আমাদের এনআইডি কার্ডের সামনে এবং পিছনে ভালোভাবে ছবি তুলতে হবে। ছবিগুলো যেন স্পষ্ট হয় সেজন্য আলোকযুক্ত স্থানে ছবি তুলতে হবে। ছবি ভালোভাবে না তুললে সঠিকভাবে তথ্য নিতে পারবে না। এরপরে আমাদের লাইভ সেলফি দিতে হবে। 
আড়ো পরুনঃ
এরপরে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য যেমন নিজের নাম,ঠিকানা, পেশা, জন্ম তারিখ এবং আয়ের তথ্য দিয়ে সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। এরপরে আমাদের একজন নমিনি তথ্য যোগ করতে হবে। সকল তথ্য সঠিকভাবে দিয়ে পূরণ করে আবেদন সাবমিট করতে হবে, সবকিছু সঠিক থাকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একাউন্ট চালু হয়ে যাবে। এভাবে আপনি আপনার ফোনের মাধ্যমে সেলফিন একাউন্ট খুলতে পারবেন।

ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আমরা এখন জানবো ইসলামী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে প্রয়োজনীয় কি কি কাগজপত্র লাগে সে বিষয়ে। ইসলামী ব্যাংকে একাউন্টে ধরনের ওপর ভিত্তি করে কাগজপত্রেরও ভিন্নতা রয়েছে। বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট অনলাইন এবং অফলাইনে দুইভাবেই খোলা যায়, তাই অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য কাগজপত্র অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একাউন্ট খোলার জন্য আমাদের প্রথমে জাতীয় পরিচয় পত্র বা এনআইডি কার্ড লাগবে। যদি আপনি স্টুডেন্ট হন এবং আপনার এনআইডি কার্ড না থাকে তাহলে জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে পারবেন।আপনি যদি অফলাইনে একাউন্ট খুলতে চান তাহলে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে।

আর যদি অনলাইনে একাউন্ট খুলতে চান তাহলে লাইভ সেলফি দিলেই হবে। অনলাইনে একাউন্ট খোলার জন্য আলাদা করে ছবির প্রয়োজন হবে না। এরপরে আপনার একটি সচল মোবাইল নাম্বার লাগবে মোবাইল নাম্বারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দারুন মোবাইল নাম্বারে ওটিপি ভেরিফিকেশন হবে। তারপরে আপনার নমিনি তথ্য দিতে হবে। নমিনি হলো আপনার অবর্তমানে যে টাকা উত্তোলন করতে পারবে। নমিনি এনআইডি কার্ড এবং ছবিও লাগবে।আপনি যদি ব্যবসায়ী অ্যাকাউন্ট খুলতে চান তাহলে আরো কিছু কাগজপত্র লাগবে সেগুলো হলো ট্রেড লাইসেন্স, TIN সার্টিফিকেট এবং প্রতিষ্ঠানের সিল।

ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগবে

আমরা এখন জানবো ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগবে। সকল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। আমরা অনেকেই মনে করি ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে অনেক টাকা লাগে,কিন্তু ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে খুব বেশি টাকার প্রয়োজন হয় না। আপনি কি ধরনের অ্যাকাউন্ট খুলতে চান তার ওপর নির্ভর করবে আপনার কত টাকা লাগবে।আপনি যদি একজন স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন তাহলে স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আপনার প্রাথমিক অবস্থায় ১০০ টাকা জমা দিয়ে একাউন্ট খুলতে হবে। স্টুডেন্টের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা মাথায় রেখে ইসলামিয়া ব্যাংক স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য খরচ কম রেখেছে।

আপনি যদি সেভিং একাউন্ট খুলতে চান তাহলে আপনাকে প্রাথমিক অবস্থা অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা জমা দিতে হবে। এই ৫০০ টাকা উত্তোলন করা যাবে না। আপনি যদি এর সাথে এটিএম কার্ড এড করতে চান তাহলে আলাদা করে টাকা দিতে হবে।আপনি যদি কারেন্ট একাউন্ট খুলতে চান তাহলে আপনাকে প্রথম অবস্থায় কিছু পরিমাণ টাকা বেশি জমা দিতে হবে। কারণ এই একাউন্টটি ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার হয়। তাই এই অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আপনাকে কিছু অতিরিক্ত টাকা এবং বেশি ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে। আপনি কারেন্ট একাউন্ট খোলার আগে আপনার নিকটবর্তী যেকোনো ইসলামী ব্যাংক এর শাখায় গিয়ে সকল তথ্য জেনে নিয়ে তারপরে কারেন্ট একাউন্ট খোলা সবচেয়ে ভালো হবে।

ইসলামী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট কত প্রকার

আমরা এখন জানবো ইসলামী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট কত প্রকার এবং কি কি। ইসলামী ব্যাংকের অনেক ধরনের একাউন্ট রয়েছে সব একাউন্ট দিয়ে এক ধরনের কাজ করা যায় না। প্রতিটা এই কাউন্টারে সুযোগ-সুবিধা এবং ব্যবহার আলাদা। তাই অ্যাকাউন্ট খোলার আগে আমাদের জানতে হবে আমাদের আমরা কোন ধরনের একাউন্ট খুলতে চাই বা কোন ধরনের একাউন্ট আমাদের জন্য ভালো হবে।ইসলামী ব্যাংকে যে একাউন্টগুলো সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় সেগুলো হলো স্টুডেন্ট একাউন্ট, সেভিংস একাউন্ট এবং কারেন্ট একাউন্ট।

আপনি যদি একজন সাধারন মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে সেভিংস অ্যাকাউন্টটি আপনার জন্য ভালো হবে। সেভিংস একাউন্টটি মূলত চাকরিজীবী ফ্রিল্যান্সার গৃহিণী সাধারণ মানুষ এদের কথা চিন্তা করে তৈরি করা হয়েছে। সেভিংস একাউন্ট ব্যবহার করে আপনি নিরাপদে আপনার টাকা জমা রাখতে পারবেন।আপনি যদি একজন ব্যবসায়ী হয়ে থাকেন তাহলে কারেন্ট একাউন্টটি আপনার জন্য। কারেন্ট একাউন্টটি তৈরি করা হয়েছে বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের কথা মাথায় রেখে। ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন লেনদেন করে থাকে এজন্য কারেন্ট একাউন্ট এর মাধ্যমে এ কাজটি সবচেয়ে ভালো এবং সুবিধার সাথে করা যায়। একাউন্টের সাহায্যে প্রতিদিন অনেকবার টাকা লেনদেন করা যায় বা উত্তোলন করা যায়। এজন্য ব্যবসায়ীদের মাঝে কার্ডের একাউন্ট সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।
আড়ো পরুনঃ
ইসলামিয়া ব্যাংকে প্রবাসী একাউন্ট রয়েছে। আপনি যদি একজন প্রবাসী হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য প্রবাসী একাউন্ট সবচেয়ে বেশি ভালো হবো।প্রবাসী একাউন্ট এর মাধ্যমে প্রবাসীরা বেশি সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন। এছাড়াও ইসলামিয়া ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট একাউন্ট  এবং অন্যান্য আরো অনেক ধরনের একাউন্ট রয়েছে। আপনি কোন ধরনের অ্যাকাউন্ট খুলতে চান সে বিষয়ে জানার জন্য আপনি আপনার নিকটবর্তী ইসলামী ব্যাংক এর যে কোন একটি শাখায় গিয়ে ভালোভাবে জেনে নিবেন।

ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খোলার সুবিধা

আমরা এখন জানবো ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খুললে কি কি সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। ইসলামী ব্যাংক ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিক একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থা। ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং ইসলামিক ব্যাংকিং সুবিধা হওয়ার জন্য বর্তমানে বাংলাদেশর বেশিরভাগ মানুষ ইসলামী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। আপনি ইসলামিয়া ব্যাংকে একাউন্ট খোলার মাধ্যমে এটিএম সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি যেকোনো সময় এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি ঘরে বসে মোবাইলের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতে পারবেন, মোবাইল রিচার্জ, বিদ্যুৎ বিল, পানি বিল সহ সকল বিল পরিশোধ করতে পারবেন এবং ইসলামিয়া ব্যাংক থেকে আপনি ইচ্ছা করলে ব্যাংক ট্রান্সফার করতে পারবেন।

আপনি সেলফিন এ ব্যবহার করে মোবাইলের মাধ্যমে ঘরে বসেই আপনি আপনার একাউন্টের ব্যালেন্স চেক করতে পারবেন। এছাড়াও সেলফিন অ্যাপের সকল সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি কাডলেস ক্যাশ সুবিধার মাধ্যমে এটিএম ছাড়াও টাকা উত্তোলন করতে পারবেন যেকোনো সময়। আপনি যদি একজন প্রবাসী হয়ে থাকেন তাহলে ইসলামিয়া ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে সহজেই প্রবাস থেকে রেমিটেন্স পাঠাতে পারবেন এবং ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি যদি একজন ব্যবসায়ী হয়ে থাকেন তাহলে ইসলামিয়া ব্যাংক কারেন্ট একাউন্ট এর মাধ্যমে প্রতিদিন আপনার প্রয়োজন মত লেনদেন করতে পারবেন। আপনি আপনার ভিসা কার্ড ব্যবহার করে শপিং থেকে শুরু করে  আন্তর্জাতিক সকল লেনদেন করতে পারবেন।

বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

আমরা এখন জানবো কিভাবে বিদেশ থেকে ইসলামের ব্যাংকে একাউন্ট খোলার নিয়ম। বর্তমানে অনেক প্রবাসী আছে যারা বিশ্বের বিভিন্ন পান্তে অবস্থান করছে তারা কিভাবে ইসলামিয়া ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা আবার পাঠাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানবো। বর্তমান সময়ে প্রবাস থেকে খুব সহজেই ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খুলে রেমিটেন্স পাঠানো যায়। আপনি যদি একজন প্রবাসী হয়ে থাকেন তাহলে কিভাবে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খুলবেন ভাবছেন তাহলে পোস্টটি ভালোভাবে পড়ুন।

আপনি বিদেশ থেকে একাউন্ট খোলার জন্য আপনার ফোনেট গুগল প্লে স্টোর থেকে সেলাফিন অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। সেলফের অ্যাপ ডাউনলোড করার পরে আপনি যে দেশে অবস্থান করছেন সেই দেশের একটি সচল ফোন নাম্বার ব্যবহার করতে হবে। যে ফোন নাম্বারটি আপনার এনআইডি কার্ড বা পাসপোর্ট দিয়ে উত্তোলন করা হয়েছে ফোন নাম্বারটি ব্যবহার করবেন। ফোন নাম্বারটি ব্যবহার করার পরে আপনার ফোনে একটি ওটিপি কোড যাবে ওটিপি কোড দিয়ে ভেরিফাই করে রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ হওয়ার পরে একটি পিন দিতে হবে তারপরে আপনি আপনার ভোটার আইডি কার্ডের দুই পাশের ছবি আপলোড করতে হবে। তারপর আপনার লাইভ সেলফি দিতে হবে।

তারপরে আপনি আপনার সব ঠিক সত তথ্য দিয়ে আবেদন করার জন্য আপনার নাম,বয়স, মাসিক আয়, পেশা এবং বিদেশে অবস্থান কৃত তথ্য  দিতে হবে। এরপরে একজন নমিনির তথ্য দিতে হবে। সকল তথ্য সঠিক ভাবে দেওয়ার পরে আপনাকে একাউন্টের ধরন নির্বাচন করতে হবে। প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে সুবিধা হল প্রবাসী একাউন্ট খোলা কারণ প্রবাসে এখন এর মাধ্যমে সহজেই রেমিটেন্স এবং টাকা সঞ্চয় করা যায়। এরপরে আপনাকে আবেদন জমা দিতে হবে। আপনার সকল তথ্য সঠিক থাকলে আবেদন করার এক থেকে দুই দিনের মধ্যে একাউন্ট চালু হয়ে যাবে। বিদেশ থেকে ইসলামিয়া ব্যাংক একাউন্ট খোলার সবচেয়ে বেশি সুবিধা হল বিদেশ থেকে যেকোনো সময় একাউন্ট চেক করা যায় এবং লেনদেন করা যায়।

বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খোলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আমরা এখন জানবো বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খোলার জন্য প্রয়োজনীয় কি কি কাগজপত্র লাগবে সেই সম্পর্কে। আপনি যদি বিদেশ থেকে ইসলাম ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে চান তাহলে সর্বপ্রথম আপনার বৈধ বাংলাদেশ জাতীয় পরিচয় পত্র বা   এনআইডি কার্ড থাকতে হবে। এরপরে আপনার একটি সচল ফোন নাম্বার লাগবে। কারণ ফোন নাম্বারের মাধ্যমে সকল তথ্য যাচাই করা হবে এবং ব্যাংক থেকে পাঠানো হবে। আপনি যদি বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় একাউন্ট খুলতে চান তাহলে আপনার পাসপোর্ট এবং ভিসার ফটোকপি লাগবে।
আড়ো পরুনঃ
আপনার বিদেশে অবস্থানরত প্রমাণ করার জন্য কাজের আইডি কার্ড, রেসিডেন্ট পারমিট এবং ইউটিলিটি বিল এর কাগজ লাগবে। এরপরে আপনার একজন নমিনির তথ্য দিতে হবে। দুই মিনিট তথ্য হিসাবে দুই কপি ছবি, এনআইডি কার্ডের ফটোকপি এবং এ নমনীর সাথে আপনার কি সম্পর্ক সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট আবেদন করার জন্য আপনার সকল তথ্য সঠিক এবং বর্তমান সময়ের আপডেট তথ্য দিতে হবে। যদি তথ্যগুলো সঠিক এবং আপডেট না হয় তাহলে অ্যাকাউন্টটি বাতিল বা অনুমোদন পেতে দেরি হতে পারে।

ইসলামী ব্যাংক কি?

ইসলামী ব্যাংক হলো বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় এবং শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা। ইসলামী ব্যাংক ইসলামী শরিয়াহ আইন অনুযায়ী পরিচালনা করা হয় এবং সুদের পরিবর্তে মুনাফা ভিত্তিক  ব্যাংকিং ব্যবস্থা পরিচালনা করে থাকে। ইসলামী ব্যাংক স্টুডেন্ট, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, প্রবাসী, গৃহিণী থেকে শুরু করে সকল সাধারণ মানুষের টাকা নিরাপদে সংরক্ষণ, লেনদেন পরিচালনা এবং সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে থাকেন। বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকের অনেকগুলো শাখা,উপ শাখা এবং এটিএম বুথ রয়েছে যার ফলে সাধারণ মানুষ তাদের প্রয়োজন অনুসারে যেকোনো সময় এবং টাকা উত্তোলন করতে পারে।

এছাড়াও ইসলামী ব্যাংকের রয়েছে সেলফিন অনলাইন মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থা। যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এমনকি প্রবাসীরা বিদেশ থেকেও নিজে নিজে একাউন্ট খুলতে পারে। সেলফি মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে ঘরে বসেই টাকা অনলাইন ট্রান্সফার, বিদ্যুৎ বিল, পানি বিল, ওয়াইফাই বিল, মোবাইল রিচার্জ, সরকারি ট্যাক্স এবং ব্যালেন্স চেক সহ সকল সুবিধা পাওয়া যায়। এছাড়াও সকল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা হওয়ার জন্য বর্তমানে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও দেশের বাহিরে প্রবাসীদের মধ্যে একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠে।

ইসলামী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করে লাভ কি?

আপনারা অনেকেই মনে করতে পারেন আমাদের ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট একাউন্ট করে লাভ কি? ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট করে সবচেয়ে বড় লাভ হলো ইসলামী ব্যাংক ইসলামের শরিয়াহ ভিত্তিক একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থা। ইসলামী ব্যাংকের সকল কার্যক্রম ইসলামী শরিয়াহ আইন মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যার জন্য ইসলামী ব্যাংকে সুদের কোন লেনদেন করা হয় না। এক কথায় বলতে গেলে ইসলামী ব্যাংক একটি সুদ মুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা। ইসলামী ব্যাংক সুদের পরিবর্তে মুনাফা ভিত্তিক লেনদেন পরিচালনা করে থাকে। ইসলামী ব্যাংকে আপনি নিরাপদে টাকা সঞ্চয় করতে পারবে এবং যে লেনদেন করতে পারবে।

ইসলামী ব্যাংকে আপনি নিরাপদে টাকা সঞ্চয় করার পরে একটি নির্দিষ্ট সময় পর মুনাফা পেয়ে থাকবেন। ইসলামী ব্যাংকে সারাদেশে এদের অনেক শাখা,উপসখা এবং এটিএম বুথ রয়েছে যার কারনে আপনি যেকোনো সময় টাকা লেনদেন, সঞ্চয়, এবং উত্তোলন করতে পারবেন, এর সাথে ইসলামী ব্যাংকের সকল সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইনে মাধ্যমে সকল সুযোগ সুবিধা থেকে শুরু করে আপনার ব্যালেন্স চেক করতে পারবেন। আপনি যদি একজন প্রবাসী হয়ে থাকেন তাহলে ইসলামী ব্যাংক ব্যবহার করে সহজে রেমিটেন্স পাঠাতে পারবেন এবং টাকা লেনদেন করতে পারবে। আপনি যদি একজন ব্যবসায়ী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য সবচেয়ে সুবিধা হলো যেকোনো সময় টাকা লেনদেন এবং চেক ব্যবহার করতে পারবেন। যাদের ইসলামী ব্যাংক ভিসা কার্ড রয়েছে তারা ভীষণের ব্যবহার করে বাংলাদেশ সহ আন্তর্জাতিক সকল মাধ্যমে টাকা লেনদেন এবং কি শপিং করতে পারবেন।
আড়ো পরুনঃ

শেষ কথাঃ ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায় 

আমরা আজকের পোস্টটিতে শিখলাম ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায়। আমরা আরও জানলাম একাউন্ট খুলতে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং একাউন্ট খুলতে কত টাকা প্রয়োজন সকল বিষয়ে বিস্তারিত জেনেছি। প্রিয় পাঠক আপনি যদি এখন ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে চান তাহলে উপরের সকল ধাপগুলো অনুসরণ করে সহজে অনলাইনের মাধ্যমে একাউন্ট খুলতে পারবেন।

প্রিয় পাঠক এই পোস্টটি পড়ে আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে শেয়ার করুন। আপনি যদি এমন আরো তথ্য মূলক পোস্ট পেতে চান তাহলে আমাদের পেজটিকে ফলো করে রাখুন। পোস্টে শেষ পর্যন্ত মন দিয়ে পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আপনার সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করে আজকের মত এখানে শেষ করছি , আল্লাহ হাফেজ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইনকোরা বিডিতে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url